Skip to main content

সত্যিই কি ইতিহাস বই থেকে মুছে ফেলা হচ্ছে মুঘলদের?


গত ছয় বছরে, NCERT তার পাঠ্যপুস্তকগুলিতে প্রধানত ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান - ক্লাস 6-12-এর ছাত্রদের জন্য সিলেবাসের বড় পরিবর্তন করেছে। এজন্য গত ছয় বছরে NCERT পাঠ্যপুস্তকের তিনবার সংশোধন করেছে।


*প্রথম রাউন্ড, 2017 সালে সংশোধন হয়। একটি সংশোধনের পরিবর্তে "পর্যালোচনা" বলা হয়েছিল। NCERT এর তৎকালীন প্রধান হৃষিকেশ সেনাপতি, বলেন GST আইন সহ সাম্প্রতিক ঘটনা এবং পরিবর্তনগুলিকে প্রতিফলিত করার জন্য পাঠ্যপুস্তকগুলি আপডেট করার প্রয়োজনীয়। 


এই পর্যালোচনার ফলে 182 টি বই জুড়ে 1,334 টি পরিবর্তন করা  হয়। যাতে সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রবর্তিত স্কিমগুলির নতুন উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় (Ancient India) সম্পর্কিত বিষয়বস্তু বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং সেইসব Nationalist Icon গুলোর উপর ফোকাস করা হয়েছে যারা এতদিন উপেক্ষিত ছিল। 


* এর এক বছর পরে, 2018 সালে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী প্রকাশ জাভকরের অনুরোধে, NCERT দ্বিতীয় পরিবর্তন শুরু করে, যা Textbook Rationalisation (পাখ্যাকরণস্তক যুক্তাক্ষিক) নীতি পরিচিত,যা ছিল  সিলেবাসের চাপ কমতে। এই অনুশীলনের ফলে বেশ কয়েকটি অধ্যায় মুছে ফেলা হয়েছে। ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক থেকে মুছে ফেলা অধ্যায়গুলি হল-

১|Clothing :  how social movements influenced how we dressed.
2|The history of cricket in India and its connection to the politics of caste, region and community.


* বর্তমানে এটি হল তৃতীয় সংশোধন। 

দশম শ্রেণির গণতান্ত্রিক রাজনীতি-২ (Democratic Politics-II) পাঠ্যপুস্তক থেকে Democracy and diversity (গণতন্ত্র ও বৈচিত্র্য), এবং 'Popular struggles and movement' (জনপ্রিয় সংগ্রাম ও আন্দোলন), ‘Challenges to democracy ' (গণতন্ত্রের প্রতি চ্যালেঞ্জ)-এর মতো অধ্যায়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।


একাদশ শ্রেনীর সিলেবাস থেকে
1. Central Islamic Lands,
2. Confrontation of cultures and 
3. The Industrial Revolution 
এর মতো অধ্যায়গুলি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

দ্বাদশ শ্রেণীর বই থেকে মুঘলদের ইতিহাসের একটি চ্যাপ্টার মুছে ফেলা হয়েছে। তবে সেটি শুধুমাত্র একটি শ্রেণীর জন্যই। সমগ্র ইতিহাস থেকেই মুঘলদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। ইতিহাস থেকে একটা Dynesty এর প্রায় 300 বছরের ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। এটা বিশুদ্ধ প্রচারণা। দ্বাদশ শ্রেণীর part-II এর ইতিহাস বই থেকে একটি অধ্যায় বাদ দেওয়া হয়েছে। সেটি হল- 
‘Kings and Chronicles: The Mughal Courts (C. Sixteenth-seventeenth centuries)

দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকের তৃতীয় খণ্ড থেকে আধুনিক ভারতের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় মুছে ফেলা হয়েছে। যথা-
1. ‘Colonial Cities: Urbanisation, Planning and Architecture’ 
2. ‘Understanding Partition: Politics, Memories, Experiences’


এছাড়াও তাৎপর্যপূর্ণ হল গান্ধী হত্যায় হিন্দু চরমপন্থীদের  ভূমিকার কথা মুছে ফেলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকের তৃতীয় খণ্ডের ‘Mahatma Gandhi and the Nationalist Movement’ শিরোনামের অধ্যায়ে নাথুরাম গডসেকে "একটি চরমপন্থী হিন্দু পত্রিকার সম্পাদক" হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বাদশ শ্রেণীর নাগরিকবিজ্ঞান (Civics) বই Politics in Indian since Independence থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বেশ কিছু জিনিস, যার মধ্যে রয়েছে -- 
1. Sections on the rise of popular movements,
2. The 2002 Gujarat riots, 
3. Era of one-party dominance'
4. National Human Rights Commission এর রিপোর্ট ইত্যাদি মুছে ফেলা হয়েছে।


এতগুলো অধ্যায় বাদ দেওয়ার কারণ কি? এই বিষয়ে NCERT কি বলেছে?


NCERT এর ডিরেক্টর দীনেশ প্রসাদ সাকলানি মঙ্গলবার স্পষ্ট করেছেন যে, CBSE বই থেকে মুঘলদের অধ্যায়গুলি 'বাদ দেওয়া হয়নি' এবং বলেছে যে,

"এটি একটি মিথ্যা। (অধ্যায়ের বিষয়ে) মুঘলদের বাদ দেওয়া হয়নি। গত বছর একটি যৌক্তিককরণ প্রক্রিয়া ছিল কারণ কোভিডের কারণে সর্বত্র ছাত্রদের উপর চাপ ছিল।"
NCERT প্রধান আরও বলেছেন যে, "বিশেষজ্ঞ কমিটিগুলি 6-12 বইগুলি পরীক্ষা করেছে। তারা সুপারিশ করেছিল যে যদি এই অধ্যায়গুলো বাদ দেওয়া হয় তবে এটি শিশুদের জ্ঞানকে প্রভাবিত করবে না এবং এর পাশাপাশি একটি অপ্রয়োজনীয় বোঝা সরানো যেতে পারে... তাই, এ বিষয়ে বিতর্ক অপ্রয়োজনীয়। যারা জানেন না তারা পাঠ্যপুস্তকগুলি পরীক্ষা করে দেখতে পারেন...," 
--- ডঃ সাকলানি



তিনি বলেছিলেন যে, মুঘলদের ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়ার কথা সর্বৈব মিথ্যা। আজও NCERT-র সপ্তম শ্রেণীর বইতে ছাত্ররা মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস অধ্যয়ন করছে। এর সাথে সাথে, তারা আবার একাদশ শ্রেণীর বইয়ের সেকশন-2 এ মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস পড়বে। এবং আবারও, দ্বাদশ শ্রেণীর বইতে মুঘলদের ইতিহাসের 2 টি অধ্যায় ছিল, যার মধ্যে নয় নম্বর চ্যাপ্টার (Thim) গত বছর সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত আট নম্বর থিম (ক্ষুদ্র অধ্যায়) এখনও শিক্ষার্থীদের শেখানো হচ্ছে। এই বছর কোনও বই থেকে কোনও অধ্যায় সরানো হয়নি।


আমরা NEP (জাতীয় শিক্ষা নীতি) 2020 অনুযায়ী কাজ করছি। এটি একটি রূপান্তর পর্ব। নতুন শিক্ষানীতি তে বিষয়বস্তু চাপ কমানোর কথা বলা হয়েছে। তাই আমরা সেইসব বিষয়গুলো বাদ দিচ্ছি যা বারবার Repeat হচ্ছে কিংবা Overlap হয়ে আছে। আমরা এটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছি। স্কুল শিক্ষার জন্য NCF (ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক) গঠন করা হচ্ছে, শীঘ্রই এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে। NEP অনুযায়ী 2024 সালে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রিত হবে। আমরা এখনই কিছু বাদ দিইনি।

Popular posts from this blog

স্বাধীনতার নায়করা পর্ব ~ ১৫

ভারতীয় সাংবাদিকতার জনক কে চেনেন..? বিগত একযুগ ধরে রাজ্য রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত রাস্তাটির নাম আজ আর নিশ্চয়ই কাউকে বলে দিতে হবেনা..? হরিশ মুখার্জী স্ট্রিট এর কথা বলছি। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস যার নামে এই রাস্তা তাঁর পরিচয় জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ লোকজনই মাথা চুলকাবেন। ঐ এলাকার যারা বাসিন্দা, তারাও কি সবাই জানেন.... ? ১৮২৪ সালে জন্ম মানুষটির, পুরো নাম হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়। ভবানীপুর তখন একেবারেই গণ্ডগ্রাম। সাত বছরের হরিশ রেভারেন্ড পিফার্ডের বদান্যতায় ভবানীপুরের ইউনিয়ন স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। একদিন এক ইংরেজ শিক্ষক ভারতীয় ছেলেদের 'ব্লাডি ইন্ডিয়ান নিগার' বলে গালিগালাজ করায় স্কুল চত্বরেই হরিশ তাঁকে বেদম ঠ্যাঙান। মাত্র পনেরো বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে বেরোতে হয় হরিশকে, কিন্তু মাসের পর মাস ঘুরেও কোনও চাকরি জোটে না। শেষমেশ ‘টলা অ্যান্ড কোম্পানি'-র কলুটোলার অফিসে নেটিভ রাইটারের চাকরি পান। সেখানে গিয়ে দেখলেন, শ্বেতাঙ্গদের সঙ্গে নেটিভদের বেতনে বিরাট ফারাক। দেশীয় লোকেরা প্রাপ্য মর্যাদাও পায় না। অফিসে উন্নতির পক্ষে বাধা হয়ে দাঁড়ালো তাঁর প্রতিবাদী স্বভাব। নে...

ইসলামিক শাসনপ্রণালি

 মুসলমানরা যেখানে বাস করে সেটাই মুসলমান রাষ্ট্র, সেটা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তই হোক না কেনো। যতই ক্ষুদ্র বা বৃহৎ অঞ্চলই হোক না কেনো মুসলমানরা বাস করে এর অর্থ সেটা মুসলমান রাষ্ট্র।  কারণ একটি মুসলমান এলাকার সমাজ ব্যবস্থা, শাসন ব্যবস্থা, শিক্ষা, বিচার ব্যবস্থা, ব্যবসা, খাজনা বা কর আদায় (Tax collection), নিয়ম (আইন) তৈরী, নিয়ম লাগু করা, সমাজের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা, এমনকি প্রতিবেশী অঞ্চলের সাথে সম্পর্ক সমস্ত কিছুই তারা নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করে। এতে কোন ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক দলের সরকার আছে তা বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলে না। মুসলমান যে এলাকায় বাস করে সেটাই মুসলমান রাষ্ট্র, সেটা 20 জন হোক বা 20 কোটি।  অমিতাভ বচ্চনের কথায়- " हम जहां खड़े होते हैं लाइन वहां से शुरू होती है"

ডিটেনশন ক্যাম্পের রাজনীতি ও বাঙালিদের আর্তনাদ

    Courtesy : Thakur Siddhant Kumar Bagchi 🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷🚷 আমরা অনেকেই আজকাল ডিটেনশন ক্যাম্প "Detention Camp", কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প  "Concentration Camp" অথবা  ইন্টার্ণমেন্ট ক্যাম্প "Internment Camp" এই শব্দগুলির সাথে কমবেশী পরিচিত। অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ ডিকশনারী অনুযায়ী এই শব্দগুলির অর্থ হল, এমন একটি জায়গা যেখানে বন্দীদের সাময়িক সময়ের জন্য আলাদা করে চিহ্নিত করে রাখা হয়, যতদিন না তাদের স্বপক্ষে বা বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।  ( A compound where prisoners are detained temporarily, as pending determination of their legal status under immigration laws.) বিশ্বের বুকে এই শব্দগুলি আদতে অতি কুখ্যাত শব্দ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। যেমন "কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প" শব্দটি শোনা মাত্র আমাদের মাথায় বিশ্বত্রাস এডল্ফ হিটলার ও তার গ্যাস চেম্বারে অসংখ্য বন্দীদের নৃশংস মৃত্যুর ভয়াবহতা ভেসে ওঠে। তবে ডিটেনশন হোক কিংবা কনসেন্ট্রেশন বা ইন্টার্ণমেন্ট ক্যাম্প, এই কুখ্যাত শব্দগুলি প্রথম শোনা গিয়েছিল 1482-1492 খৃষ্টাব্দ ...