Skip to main content

শহীদ নয় বলিদানী বলুন |

একদিন Major General G.D. Bakshi চিৎকার করে বলছিলেন,


"शहीद नहीं साहब, बोलिदनी बोलिये।

शहीद और बोलीदानी में ज़मीन आसमान की फरक है"।



কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক 2016 সালের ডিসেম্বরে লোকসভাকে জানিয়েছিল যে ভারতীয় সেনা, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর বলিদানী সেনাদের জন্য ইংরেজিতে Martyar এবং হিন্দি বা উর্দুতে শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না।


ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কোনও শহীদ নেই, যারা রয়েছেন তারা বীর, তারি দেশের জন্য প্রাণ দেয়। দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য সর্বস্ব উৎসর্গ করা সেনাকর্মী ও জওয়ানদের আর শহীদ হিসেবে লেখা হবে না।ভারতীয় সেনাবাহিনী তাদের ত্যাগী, বলিদানী বীর, বীর যোদ্ধা, প্রয়াত বীর, (बलिदानी, वीर, वीरगति को प्राप्त वीर, वीर योद्धा, दिवंगत नायक) প্রভৃতি বিশেষ্য দিয়ে সম্বোধন করার পরামর্শ দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক প্রশাসন তাদের সকল ইউনিটকে প্রয়োজনীয় সার্কুলারও জারি করেছে। 


তাদের কথা অনুসারে, সেনা, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর শব্দভাণ্ডারে কোথাও শহীদ শব্দটি নেই। যারা আত্মাহুতি দিচ্ছেন তাদের জন্য শহীদ শব্দটি ব্যবহার হত না। তাবুও, 1990 সাল থেকে, এই শব্দটি সন্ত্রাসবাদী এবং নকশাল সহ বিভিন্ন দেশবিরোধীদের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ করা সৈনিক এবং অফিসারদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন এই শব্দটি পাকিস্তান ও চীনের সাথে যুদ্ধে শহীদ হওয়া সৈন্যদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। শহীদ সৈনিকদের জন্য ইংরেজিতে Martyar ও শহীদ লেখা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রশ্ন উঠছে।


এই বিষয়ে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক 2016 সালের ডিসেম্বরে লোকসভাকে জানিয়েছিল যে ভারতীয় সেনা, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর শহীদদের জন্য ইংরেজিতে মার্টার এবং হিন্দি বা উর্দুতে শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না।



এ প্রসঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরে নিযুক্ত একজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা বলেছেন যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শহীদ সৈন্য এবং অফিসারদের জন্য শহীদ শব্দটি ব্যবহার করার জন্য কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। শব্দটি 1990 এর দশক থেকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে। আমরা এর জন্য সর্বোচ্চ বলিদান, বীরত্ব এর মতো শব্দ ব্যবহার করে আসছি।



যারা জাতির জন্য নয়, ধর্মের জন্য লড়াই করে তাদের শহীদ বলা হয়:  জম্মুর বিশিষ্ট চিন্তাবিদ অধ্যাপক ড. হারিওমের মতে, শহীদ শব্দটি সাধারণত মুসলমান ধর্মযোদ্ধাদের জন্য এবং Martyar শব্দটি খ্রিস্টানদের মধ্যে ক্রুসেডে নিহত যোদ্ধাদের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইসলামে জিহাদের জন্য নিহতদের জন্য শহীদ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজও ইসলামের নামে বিশ্বে ত্রাস সৃষ্টিকারী উপাদান ও সন্ত্রাসীরা বন্ধুর মৃত্যুর পরও তাকে শহীদ বলে। মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে যারা সর্বস্ব উৎসর্গ করেন, যারা তাদের মানুষের জীবন বাঁচাতে আত্মত্যাগ করেন তারাই ত্যাগী ও বীর। কাশ্মীর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডঃ অজয় ​​চুরুঙ্গু বলেছেন যে আমাদের শব্দভাণ্ডারে এমন কিছু শব্দ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার মূল অর্থ সম্পূর্ণরূপে ইসলামী সভ্যতা বৃদ্ধি করা। শহীদও এমন একটি শব্দ। আমাদের সেনাবাহিনী অসাম্প্রদায়িক এবং মাতৃভূমিকে রক্ষার জন্য সেখানে আছে, কোনো ধর্ম বা আদর্শ রক্ষার জন্য নয়।





Popular posts from this blog

নদীয়ার স্বাধীনতার কাহিনী

কোন দেশের স্বাধীনতা দিবস বলতে একটিই দিন বোঝায়। কিন্তু ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ঘটেছে ব্যতিক্রম। ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট সারা বিশ্ব যখন নিদ্রামগ্ন তখন ভারতবর্ষের পূর্বপ্রান্তের কয়েকশত ব্যক্তির প্রাণশক্তি ও স্বাধীনতা জাগ্রত হন ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট নয়, ১৯৪৭ সালের ১৮ই আগস্ট। সমগ্র ভারতবর্ষে যখন ১৫ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবস পালন করা হয়। তখন কেন ১৮ই আগস্ট নদীয়ার স্বাধীনতা দিবস? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রবীন নদীয়াবাসীদের মনের কোণে লুকিয়ে থাকা চাপা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ আজও ঘটে। ভারত ভাগের পর স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফের তৈরি ম্যাপের গণ্ডগোলের জন্যই ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারতবাসীর কাছে অন্যতম স্মরণীয় দিন হয়েও নদীয়াবাসীর কাছে ছিল চরম দুঃখের ও বেদনার দিন। স্বাধীনতার প্রাক্কালে অবিভক্ত নদীয়ার মহুকুমা ছিল পাঁচটি; কৃষ্ণনগর সদর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও রানাঘাট। র‍্যাডক্লিফের ম্যাপে ভাগীরথীর পশ্চিমপাড়ে নবদ্বীপ বাদে বাকি এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। নবদ্বীপকে নদীয়া জেলা বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৪৭ সালের ১২ই আগস্ট রেডিওতে ঘোষণা করা হয়, ভারতবর্ষকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা ক...

ভবিষ্যতে প্যালেস্টাইনের গাজা:

সিন্ধু নদের উপত্যকায় সনাতন ধর্মের জন্ম, তবে এই সনাতন ব্যাপারটা ঠিক হজম হয় না! বিশ্বের চারটি প্রাচীন সভ্যতার (Mesopotamia, Egypt, Indus, China) মধ্যে সিন্ধু নদের সভ্যতা একটা। ৫৭০ সালের পরে ইসলামের বিস্তার ঘটতে থাকে সারা বিশ্বে, কারনটা অনেকেরই অজানা নয় যতই সুফি বন্দনা করুন না কেন! ৬৩৬ সালে খলিফা ওমরের শাসনামলে ভারত ভুখন্ডে প্রথম মুসলিম আগ্রাসন শুরু হয়। পরের দিকে খলিফা ওসমান, আলী ও মুয়াবিয়ার আরো আক্রমণ হানে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের দুটো ব্যাপক আগ্রাসন ও ভারতবর্ষে পরিপূর্ণভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলো, হাজ্জাজের ভাইপো মোহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ সালে সিন্ধুর দেবাল বন্দর জয় করলো আর প্রথম ইসলামী ঘাঁটি গাড়তে সক্ষম হলো ভারতবর্ষে। এরপর ১৩০০ বছরে ৮ কোটিরও বেশী হিন্দু নিধন চললো আর ইসলাম উপমহাদেশে জাঁকিয়ে বসলো। ইরানের নাদির শাহ ১৭৩৮এর দিকে, ১৮০০এর দিকে আফগান আহমাদ শাহ আবদালী কিংবা মুঘল সাম্রাজ্যের টিপু সুলতানরা হাজারে-হাজারে, লাখে লাখে স্থানীয় হিন্দু নিধন, সম্পদ লুন্ঠন, ক্রীতদাসত্বকরণ করেছিল | বহুল সমালোচিত সতীদাহ প্রথার উৎপত্তিও এই সময়কালেই। মোহাম্মদ বিন কাসিমের ক্রীতদাসত্বের থেকে রক্ষা পেত...