মানুষ নাকি গ্যালিলিও, কোপারনিকাস, নিউটনের আগে সেরকম উন্নত ছিল না। যতই আর্যভট্ট বরাহমিহির থাক সায়েবদের কাছে প্রমাণ করতে পারবেন না প্রাচীন পৃথিবীতেও বিজ্ঞানীরা ছিলেন। সে যাক গে।
আজকে একটি ইকুইনক্স। অর্থাৎ দিন রাত সমান। ছোটবেলায় ভূগোল বইতে পড়েছিলেন না ২১ শে মার্চ আর ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিন রাত সমান। আজকে সেরকমই এক দিন। পৃথিবীর দুই গোলার্ধে দিন রাত সমান।
তিরুবনন্তপুরমের পদ্মনাভস্বামী মন্দির কত পুরনো দেখে নিন সোজাসুজি দাঁড়ালে প্রত্যেক ইকুইনক্সে এই মন্দিরের গোপুরমের পাঁচটি গবাক্ষ দিয়ে অস্তগামী সূর্যকে ঠিক পাঁচ মিনিট পরপর দেখা যায়। এছাড়া ভারতে আরও বহু মন্দির বিশেষত সূর্য মন্দির আছে যেখানে ইকুইনক্সে সূর্যরশ্মি অনেক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা করে।
আচ্ছা ভারত কত ভালো সেসব তো রোজ ঘ্যানঘ্যান করে বলি। সায়েবদের থুড়ি ইওরোপীয় বিজ্ঞানীদের আগের অন্য মহাদেশের বিজ্ঞানীরা কি করছিলেন?
আজ যার নাম মেক্সিকো সেটাই ছিল মায়া সভ্যতার পীঠস্থান। স্পেনের লুঠেরাগুলো আসার আগে মূল নিবাসী মায়ারা নিজেদের দেশে নিজের মত করে থাকতো। একুশে মার্চ অর্থাৎ স্প্রিং ইকুইনক্সের দিন মেক্সিকোর ইউকাতানের মায়ান পিরামিডের সূর্যের আলো পড়ে সাপের মতো ছায়া সৃষ্টি করতো। পিরামিডের ভিতের কাছে সাপের মূর্তির মাথার সঙ্গে গিয়ে মেশে সেই ছায়া।
আঙ্করভাটের মন্দিরের অবস্থান এরকম যে ঠিক মন্দিরের চূড়া বরাবর নব্বই ডিগ্রিতে সূর্য ওঠে দুই ইকুইনক্সে।
খুফুর পিরামিড আর স্ফিংস সূর্যের সঙ্গে অদ্ভুত সরলরেখায় থাকে এই দুই দিন।
এতো কথা বলার মানে কি? সূর্যের আলো কোথায় কিভাবে পড়বে তা দিয়ে কি যায় আসে? কিছুই না। কেবল এটুকুই। সূর্যের গতিবিধি ঠিকঠাক ক্যালকুলেট করতে না পারলে এতো অদ্ভুতভাবে স্থাপত্যের অবস্থান নির্দিষ্ট হতো কিভাবে?
চিত্র: পদ্মনাভস্বামী মন্দির
চিত্র: আঙ্করভাট
চিত্র: গিজার পিরামিড আর স্ফিংস
চিত্র: ইউকাতানের কুলুল্কান পিরামিড