Skip to main content

কাশ্মীর to কলকাতা

#কাশ্মীর_To_কলকাতা
ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর শাসনকালে ভারতবাসী সেটাই জেনেছে, যেটা তাঁর শিক্ষামন্ত্রীরা ইতিহাস বইয়ে লিখিয়ে গেছে....
যে ইতিহাসে ক্ষমতার জোরে অন্যের মা-বোন-বউকে শয্যাসঙ্গিনী করা জাহাঙ্গীর বড় প্রেমিক, হারেমে কয়েকশ বউ থাকা শাহজাহান, পতি পরম গুরু ও কাশী বিশ্বনাথ সহ শত শত মন্দির ধ্বংস করা ঔরঙ্গজেব শিক্ষিত পণ্ডিত ও উদারমনা.....
সেই ইতিহাসে কাশ্মীর, নোয়াখালি ও কলকাতার হিন্দু নিধন যে স্থান পাবে না....সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না....তবে সময় পাল্টাচ্ছে.....
একটা কাশ্মীর ফাইলস দেখেই গেল গেল রব...
আঁতকে উঠেছে সেকুলার সমাজ....
সবে একজন ডাইরেক্টর একটু সাহস দেখাতে পেরেছেন...বাকি এখনও অনেক কিছু.....
নোয়াখালী ফাইলস, কলকাতা ফাইলস, সিতাকুন্ড ফাইলস, কালশিরা ফাইলস, চুকনগর ফাইলস, নাচোল ফাইলস, ভৈরব ব্রিজ ফাইলস, ঢাকা ফাইলস, সিলেট ফাইলস, যশোর ফাইলস...আরও কত ফাইলস যে দিনের আলো দেখতে চায়...ইতিহাস বইয়ের পাতায় আসতে চায়... তা লিখে শেষ করা যাবে না.....
বাংলাদেশে কোথায় কোথায় কি কি হয়েছিল....সেটা ছদ্ম সেকুরা ছাড়া সবাই জানে, বুঝতে পারে....কারন স্বাধীনতা পর্ব থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে হিন্দু খেদাও অভিযান চলছে.....কমতে কমতে পাকিস্থান আফগানিস্তানের মতই বাংলাদেশেও হিন্দু এখন শূন্যের দিকে... বাপের দেশ ইমরানের পাকিস্তানকে আজও অনুসরণ করছে হাসিনার বাংলাদেশ....
কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রে যে যে কান্ড ঘটেছিল, সেটাও চাচা নেহেরুর শিক্ষামন্ত্রীরা সুন্দর ভাবে মুছে দিয়েছেন...কাশ্মীর ফাইলস এর মত কলকাতা ফাইলস-টাও এবার সিনেমার পর্দায় খুলে ফেলার সাহস কি দেখাতে পারবেন কলকাতা তথা টলিউডের কোন পরিচালক.....??
কি হয়েছিল ১৯৪৬ সালের ১৬ই আগস্ট...?? কলকাতার হিন্দুদের জীবনে নেমে এসেছিল এক নৃশংস জেহাদি আক্রমণ, যার পোশাকি গালভরা নাম ছিল 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' আর ইতিহাসে যা পরিচিত হয়ে আছে, 'The Great Calcutta Killing' নামে।
১৯৪০ খ্রীস্টাব্দের ২৩ শে মার্চ অবিভক্ত ভারতের লাহোর শহরে, মুসলিম লিগ একটি প্রস্তাব পাশ করে। আমাদের কাছে এটা পরিচিত 'পাকিস্তান প্রস্তাব' নামে। এতে লেখা ছিল, ভারতবর্ষের মুসলমান প্রধান অঞ্চলগুলোকে নিয়ে আলাদা একটি রাষ্ট্র তৈরি করতে হবে, অর্থাৎ সোজা ভাষায় আমাদের মাতৃভূমিকে ভেঙ্গে দু-টুকরো করে মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র দিতে হবে।
প্রস্তুতি অবশ্য নেওয়া হচ্ছিলো বহু আগে থেকেই। বহু বছর ধরেই পরিকল্পিত ও সুনিয়ন্ত্রিত দাঙ্গা হাঙ্গামার মাধ্যমে বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হিন্দু ও শিখদের। বিশেষতঃ, পূর্ব বাংলা‚ মালাবার উপকূল‚ পশ্চিম পাঞ্জাব‚ উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ প্রভৃতি অঞ্চল থেকে নিয়মিত হারেই হিন্দু ও শিখরা অন্য অঞ্চলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছিল নিজেদের প্রাণ ও পরিবারের সম্মান বাঁচানোর জন্য। 
ফলে সেইসব অঞ্চলে পাকিস্তান সৃষ্টির অনুকূলে জনবিন্যাসের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যায়। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ শাসকদেরও বিভিন্নভাবে সাহায্য করা হচ্ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম দমন করার কাজে‚ যাতে পাকিস্তান তৈরির ব্যাপারে হিন্দুদের বিরুদ্ধে তাদের সাহায্য পাওয়া যায়। চৌধুরী রহমত আলি ১৯৩৩ সালেই আর কোনও রাখঢাক না রেখেই, 'নাউ অর নেভার' নামক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে দাবি তুলে দেয় পৃথক মুসলমান রাষ্ট্র সৃষ্টির।
কমিউনিস্ট পার্টিও তাদের বিখ্যাত 'অধিকারী থিসিস'-এ একপ্রকার সমর্থন দিয়ে দেয় পাকিস্তান সৃষ্টির। গণনাট্যের সদস্য কমরেড হেমাঙ্গ বিশ্বাস পাকিস্তানের পক্ষে লিখেও ফেলেন‚ 
'শোন কংগ্রেস নেতাগণ/মুসলমানের আত্মশাসন
না মানিলে হয় না মিলন/দেখ চিন্তা করি'।
তিনি আরও লেখেন‚ 
'দীন ইসলামের নিদ্ মহলে হাঁকে ভোরের আজান‚
জাগ্ জাগ্ রে মুসলমান'।
সেই সেকুলার-গিরি আজও চলছে কমিউনিস্ট-দের...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তীতে যখন একপ্রকার নিশ্চিত হয়েই যায় যে, ব্রিটিশরা ভারত ত্যাগ করছেই। তখন থেকেই পাকিস্তান তৈরির প্রচেষ্টা আরও জোর গতিতে চলতে থাকে। আর তারই সঙ্গে চলতে থাকে মুসলিম লিগের মধ্যে ক্ষমতার জন্য নেতৃত্বদের মধ্যে কামড়াকামড়ি। কারণ যদি পাকিস্তান তৈরি হয়‚ তবে যে নেতা যত উপরের পর্যায়ে থাকবে‚ নতুন রাষ্ট্রে সে তত বড় পদ পাবে। আর এই ক্ষমতার টানাপোড়েন আর ধর্মান্ধতার মেলবন্ধন থেকেই গণতান্ত্রিক ও শান্তির ভারতে জন্ম নিয়েছিল কলকাতা তথা পশ্চিম বাংলার ইতিহাসের অন্যতম বড় হিন্দু গণহত্যাটি....
সেইসময় মুসলিম লিগ ছিল প্রধানত জিন্নাহর নিয়ন্ত্রণে। আর হোসেন সোহরাওয়ার্দি বাঙলার প্রধানমন্ত্রী (তখন প্রদেশের শাসককে 'প্রধানমন্ত্রী' নামেই ডাকা হত) হলেও জিন্নাহর সামনে বিশেষ পাত্তা পাচ্ছিল না। তাই সেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল, মুসলমানদের কাছে জিন্নাহর থেকেও 'বড় জেহাদি' বলে নিজেকে প্রমাণ করতে। আর এই সুযোগ তাকে এনে দিল খোদ মহম্মদ আলি জিন্নাহ..
এদিকে জিন্নাহও সুযোগ খুঁজছিল ব্রিটিশ সরকার ও হিন্দুদের সামনে মুসলমানদের পেশীশক্তি প্রদর্শনের। এছাড়াও তাদের স্বপ্নের পাকিস্তানের জন্য কলকাতা ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় শহর-বন্দর। কলকাতার হিন্দুদের সন্ত্রস্ত করে উচ্ছেদ করাতে পারলেই দেশভাগের সময় মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চলরূপে কলকাতাকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা এমন কিছু কঠিন হত না তাদের পক্ষে। এর জন্যে দরকার ছিল শুধুই একটা ছুতোর।
এমন সময় ক্ষমতালোভী জওহরলাল নেহরু একটি বেফাঁস কথা বলে বসলেন সাংবাদিকদের সামনে। বোকার মতো দম্ভ দেখাতে গিয়ে বললেন যে, শাসন পরিষদে দুই দলের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও তারা সংখ্যার জোরে ইচ্ছামত সমস্ত বিল পাশ করিয়ে নেবেন। আর জিন্নাহও পেয়ে গেল, তার বহু আকাঙ্খিত ছুতোটিকে। 
১৯৪৬ সালের ২৯ শে জুলাই বোম্বের (অধুনা মুম্বাই) সভায় জিন্নাহ ডাক দিল প্রত্যক্ষ সংগ্রামের। বিবৃতি দিল, "কংগ্রেসের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় গণতান্ত্রিক পথে আর এগোনোর সুযোগ না থাকায় আমরা হাতে পিস্তল তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছি। সময় এখন, ডাইরেক্ট অ্যাকশনের"। সভা থেকে ভেসে এল সরাসরি হুমকি‚ "আমি নীতিকথার আলোচনায় যেতে চাই না। আমাদের হাতে বন্দুক আছে এবং আমরা তা ব্যবহার করতে প্রস্তুত"।
বাংলার প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দী নিজেকে জিন্নাহর থেকে বড় জেহাদী নেতা প্রমাণের এই সুযোগ কিছুতেই ছাড়তে রাজি ছিল না। এই ১৬ই আগস্ট দিনটিকেই সে বেছে নিল নিজের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। হিন্দু গণহত্যার প্রস্তুতি চলল জোর কদমে। পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব থেকে আগের অফিসারদের সরিয়ে সেখানে আনা হল মুসলিম লীগের বাধ্য অফিসারদের।
ডিসি হেডকোয়ার্টার থেকে নর্টন জোন্সকে সরিয়ে সেখানে আনা হল দোহাকে। ডিসি নর্থ রায়বাহাদুর সত্যেন মুখার্জীকে সরিয়ে সেখানে সোহরাওয়ার্দী আনে হাফিজউদ্দীনকে। উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (N.W.F.P.) থেকে প্রচুর সংখ্যক মুসলমান পুলিশ আমদানি করা হয়। কোনও কোনও থানায় অতিরিক্ত একজন করে ওসি নিয়োগ করা হয়। বিশেষতঃ হিন্দু এলাকাগুলোতে নিয়োগ করা হয়, কয়েকজন অতিরিক্ত মুসলমান ওসি।
এছাড়া হিন্দু গণহত্যা সুচারুভাবে পরিচালনা করার জন্য তৈরি হয় 'মুসলিম ন্যাশনাল গার্ড'। প্যারামিলিটারি ফোর্সের মতো তাদের পোশাক দেওয়া হয়‚ টুপিও দেওয়া হয়। শোনা যায়, এইসময় সোহরাওয়ার্দি নিজে ও তার প্রশাসনের কর্মীরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে গিয়ে পেট্রোল ও অস্ত্রশস্ত্র বন্টন করেছিল।
১৬ই আগস্ট থেকে ১৯শে আগস্ট-এই চারদিন কলকাতার রাস্তায় কোনও পুলিশ বা মিলিটারি দেখা যায়নি। তাদের সবাইকে ব্যারাকে বসে থাকতে হয়েছিল সোহরাওয়ার্দি সরকারের রাষ্ট্রীয় নির্দেশে। নির্দিষ্ট দিনে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয় সোহরাওয়ার্দীর সরকারের পক্ষ থেকে।
১৬ই আগস্ট ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় মুসলিম লিগের সভা। বিভিন্ন ধরনের প্রাণঘাতী অস্ত্র হাতে সেদিন সভায় উপস্থিত ছিল প্রায় পঞ্চাশ হাজার মুসলমান। মঞ্চে উপস্থিত ছিল হোসেন সোহরাওয়ার্দী‚ খাজা নাজিমুদ্দিন‚ ইস্পাহানি ও মুসলিম লিগপন্থী দলিত নেতা যোগেন্দ্রনাথ মন্ডল। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে সোহরাওয়ার্দী সুস্পষ্ট নির্দেশ দেয়‚ "সেনা ও পুলিশকে সংযত করা হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টা সময় দিলাম‚ যা করতে পারিস কর"। ঠিক যেমন কাশ্মীরের মসজিদ থেকে হিন্দু নিধন এর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, ঠিক তেমনই প্রকাশ্যে হয়েছিল কলকাতায়....
সভা শেষ হতেই উপস্থিত উন্মত্ত মুসলমান জনতা প্রথমে আক্রমণ করে সভা দেখতে আসা হিন্দু জনতাদের। 'লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান' - হুঙ্কার ছাড়তে ছাড়তে তারা দল বেঁধে ছড়িয়ে পড়ে কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা ধরে। অবাধে চলে লুটপাট‚ খুন জখম‚ ধর্ষণ। ক্যানিং স্ট্রিট‚ ওয়েলেসলি স্ট্রিট‚ ধর্মতলা স্ট্রিট‚ কর্পোরেশন স্ট্রিট‚ মানিকতলা রোড আর বিবেকানন্দ রোডে গণলুঠ হয়। লুট হয় কমলালয় স্টোর্স‚ ভারতকলা ভান্ডার‚ লক্ষ্মী স্টোর্সের মতো বিখ্যাত দোকানগুলো। আক্রান্ত হয় উত্তর ও মধ্য কলকাতার হিন্দু পাড়াগুলি। 
গড়পাড়‚ নারকেলডাঙা‚ বেলেঘাটা‚ ফুলবাগান‚ পার্ক সার্কাস‚ কলুটোলা‚ চিৎপুর জুড়ে সন্ত্রাস চালিয়ে বেড়ায় 'মুসলিম লিডার'-রা। আর শুধু সাধারণ মানুষই না‚ তাদের আক্রমণ থেকে বাদ পড়েননি অভিনেতা ছবি বিশ্বাস‚ গণিতজ্ঞ যাদব চক্রবর্তী‚ রাজা দেবেন্দ্র মল্লিক‚ ডেপুটি পুলিশ কমিশনার এস.এস.মুখার্জির মতো বিশিষ্ট বাঙালিরাও। আক্ষরিক অর্থেই যেন একখণ্ড নরক নেমে আসে কলকাতার বুকে।
নিহত হয় অসংখ্য হিন্দু‚ ধর্ষিতা মহিলাদের সংখ্যা ছিল অগুনতি। হিন্দুদের উপর বিজয়ের চিহ্ন স্বরূপ রাস্তার পাশে ধর্ষিতা মৃত মেয়েদের মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। আক্রমণ চলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। ভিক্টোরিয়া কলেজের লেডিজ হোস্টেল আক্রমণ করে মুসলিম লিগের গুন্ডারা। অন্যান্য মেয়েরা সময়মতো বাড়িতে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পালাতে পারেনি চারজন ছাত্রী। হোস্টেলেই ছিল তারা।  হতভাগিনীদের উপর গণধর্ষণ চালিয়ে তাদের হত্যা করে আক্রমণকারীরা। ধর্ষণের পর তাদের স্তন কেটে নিয়ে তারপর তাদের যৌনাঙ্গে গো-মাংস ঝোলানোর শিক ঢুকিয়ে‚ তাদের মৃতদেহগুলিকে কলেজের দোতলার একটি ক্লাসরুম থেকে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল হিন্দুদের মধ্যে ভয় সৃষ্টির জন্য। 
আর শুধু বাঙালিই নয়‚ হিন্দু হলেই আর ছাড় ছিল না কারও। মেটিয়াবুরুজে উড়িয়া শ্রমিকদের বস্তিতে চলে আক্রমণ। কম করে ৫০০ জন উড়িয়া শ্রমিককে সেখানে হত্যা করা হয়েছিল। অসহায় শ্রমিকদের রক্তে, সেদিন লাল হয়ে গিয়েছিল হুগলি নদীর জল।
তবে হিন্দুরাও অবশ্য শুধুই পড়ে পড়ে মার খায়নি। হ্যাঁ‚ প্রাথমিকভাবে নিজেদের হাজার বছরের প্রতিবেশীদের তরফ থেকে আসা এমন আক্রমণে তারা হতভম্ব হয়ে যায়। ধর্মনিরপেক্ষতার এতদিনের লালিত বিশ্বাস মূহুর্তের মধ্যে চোখের সামনে ধ্বসে পরতে দেখে, তৈরি হতে সময় লাগে। 'একই বৃন্তে দুটি কুসুম' এর এক কুসুমের এরকম জেহাদি রূপ বেরিয়ে আসায়, মানসিক বৈকল্য আসে তাদের। পাল্টা প্রতিরোধের জন্যে তৈরি না থাকায়, প্রথম দুদিন প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়, কলকাতার বুকে বাঙালি হিন্দুরা....
তবে শেষ পর্যন্ত নিজেদের বীরত্বের ঐতিহ্য বজায় রেখে ঠিকই প্রতিরোধে নামে হিন্দুরা। নেতৃত্ব দেয় স্থানীয় এক মাংস ব্যবসায়ী গোপাল মুখোপাধ্যায়‚ওরফে গোপাল পাঁঠা। পাঁঠার মাংসের দোকান থাকায়, তার নামই হয় গোপাল পাঁঠা। স্থানীয় হিন্দু যুবকদের নিয়ে, এই গোপাল পাঁঠা তৈরি করলেন স্বতঃস্ফূর্ত এক প্রতিরোধ বাহিনী। তার সঙ্গে যোগ দিলেন রাম চ্যাটার্জি, যুগলকিশোর ঘোষ, ইন্দুভূষণ, বিজয় সিং নাহার এবং আরও অনেক হিন্দু নেতা।
প্রতিবেশীদের নরখাদক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা মাথায় ছিল না তাদের। অনেকেই ছিলেন ওই ধর্মনিরপেক্ষ সেকুলার। তাই সেকুলার হিন্দুদের হাতে তেমন কোনও অস্ত্র ছিল না। লাঠি, কাটারি, সামান্য কিছু আগ্নেয়াস্ত্র আর হাতের কাছে পাওয়া যৎসামান্য কিছু অস্ত্র নিয়েই জেহাদ প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। জেহাদি আক্রমণ প্রতিহত করলেও সেদিন কিন্তু মানবতা হারায়নি হিন্দুরা। 
কোনও মুসলমান শিশু বা মা-বোনের গায়ে হাত তোলা নিষিদ্ধ ছিল তাদের জন্য। হিন্দু মতে পরস্ত্রী মানেই যে সে মাতৃতুল্য। কোনও মুসলমান যদি আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দিতেও হিন্দু প্রতিরোধ বাহিনী ছিল বাধ্য। কিন্তু কোনও অস্ত্রধারী আক্রমণকারীকেই জীবন্ত ছাড়া যাবে না, সহযোদ্ধাদের প্রতি এটাই ছিল নেতা গোপাল পাঁঠার স্পষ্ট নির্দেশ।
দু-তিন দিন ধরে, কলকাতায় চলে প্রবল প্রতিরোধ। সেই প্রতিরোধের ব্যাপকতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহরাওয়ার্দি ও অন্যান্য মুসলিম লিগের নেতারা। ভেতো বাঙালি হিন্দুদের থেকে এমন প্রতিরোধ আসবে, তা তারা দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। একের পর এক হিন্দু এলাকা দখলমুক্ত হয়। কলকাতা থেকে হঠতে থাকে মুসলিম লিগ। পরিস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে যায় সোহরাওয়ার্দি! এইভাবে চলতে থাকলে যে কলকাতা তো কোন ছাড়‚ গোটা বাংলা থেকেই যে লিগের নাম মুছিয়ে দেবে বাঙালি হিন্দুরা....
ফলে একদিন যে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে আটকে রাখা হয়েছিল লিগের গুন্ডাদের অবাধে সন্ত্রাস করার জন্য‚ সেই সেনাবাহিনীকেই এবার লাগানো হল হিন্দু প্রতিরোধ বাহিনীর বিরুদ্ধে। ফলে ২০ তারিখ থেকে শান্ত হয়ে আসে কলকাতা। তবে ততক্ষণে জিন্নাহর কলকাতা দখলের স্বপ্ন আক্ষরিক অর্থেই, ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে গোপাল পাঁঠা ও তার সহযোদ্ধারা। 
কতজন বাঙালি হিন্দু নিহত হয়েছিলেন সেই জেহাদি আক্রমণে? সঠিক হিসাব এখনও অজানা। সরকারি মতে, তিন হাজার। প্রত্যক্ষদর্শীদের ও বেসরকারি মতে, সংখ্যাটি অন্ততঃ কুড়ি হাজার। এছাড়া গনধর্ষণ‚ লুঠ ইত্যাদি তো আছেই। অগনিত ধর্ষণ ও হত্যার ফলে স্রেফ শেষ হয়ে গিয়েছিল বহু পরিবার।
বাঙালি হিন্দুর অর্থনীতি ধ্বসিয়ে দেওয়ার জন্য লুটপাট ছিল তাদের অত্যন্ত কার্যকরী একটা অস্ত্র। কেবলমাত্র কমলালয় স্টোর্স থেকেই তৎকালীন সময়ের হিসাবেই, প্রায় লক্ষাধিক টাকার জিনিস লুঠ হয়। তাহলে পুরো কলকাতা থেকে কি পর্বত পরিমাণ অর্থ লুট হয়েছিল, তা সহজেই অনুমেয়।
এই কলকাতা গণহত্যা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতপার্থক্য থাকতেই পারে। থাকতে পারে সংখ্যাতাত্ত্বিক বিতর্কও। তবে সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধে উঠে এটাই বলা যায় যে‚ এই গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি হিন্দুর স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ তার চিরকালীন ঐতিহ্যকেই বজায় রেখেছিল। বাঙালি হিন্দু শান্তিপ্রিয় জাতি‚ কখনোই নিজে থেকে কাউকে আক্রমণ করে না সে‚ কারও উপর অত্যাচারও করে না। কিন্তু কেউ তাদের সঙ্গে তা করলে‚ সেই অত্যাচারকে প্রতিহত করার জন্যে মৃত্যুপণ করেও লড়তে পারে তারা। গোপাল পাঁঠা ও তার প্রতিরোধ বাহিনী ছিল, এই চিরন্তন ঐতিহ্যেরই স্বার্থক রক্ষাকর্তা।
ইতিহাস বই থেকে, সুন্দর ভাবে উধাও করে দেওয়া হয়েছে এই ঘটনা...এই চারদিন গান্ধী নেহেরু বা বাংলার কমিউনিস্ট-দের মাঠে নেমে লড়তে দেখা যায়নি...তারাও ছিলেন ক্ষমতার লোভে অন্ধ....
গদির জন্য তোষণের নীতিই ছিল তাদের অস্ত্র...
দু একটা এলাকা থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে মুসলিম লীগ দখলে নিলে কি এসে গেল.....
সেটা যদি বাংলার রাজধানী তিলোত্তমা কলকাতা হয়, তাতেই বা কি এসে যায়.....!!
দিল্লির ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেই হল.....
দেশ কাঁপাচ্ছে কাশ্মীর ফাইলস, টলিউডে কি তৈরি হবে, 'কলকাতা ফাইলস' বা 'The Great Calcutta Killings'....….
নিশ্চিত থাকুন, সেকুলার বন্ধুরা....
তোষণের রাজ্যে বাংলার কোন পরিচালকের একটা ফাইলসও মানুষের সামনে খোলার সাহস নেই....
তবে ইতিহাস আর চেপে রাখা যাবে না.....
কাশ্মীর চাপা যায়নি, কলকাতাও যাবে না.....

🖊 Manab Guha

#NoakhaliFiles #KashmirFiles #TheGreatKolkataKillings #KashmiriPandits #kashmirfilesmovie #calcuttakillings

Popular posts from this blog

RSS

RSS টার্গেট নিলো একটা গ্রামে কাজ করবে। তাদের লক্ষ্য কি হবে?  ১| সেবা ২| সকলকে একজোট করা ৩| গ্রামের উন্নয়ন  ৪| মন্দির সংস্করণ সবগুলোই? সংঘ আজ থেকে নয়, অনেক আগের থেকেই কাজ করছে। আমার দাদুরাও RSS কে কাজ করতে দেখেছে। সেটা আমার জানা ছিলো না। পরে দাদুকে RSS এর কথা বোঝাতে গেলে জানতে পারি।  চলুন প্রথম থেকে শুরু করা যাক। আমার এক বন্ধু একদিন হঠাৎই বললো চল এক যায়গায় মিটিং আছে। আমরা পাঁচজন মিলে পৌঁছালাম রামকৃষ্ণ আশ্রমে। যাওয়া মাত্রই আশ্রমের গুরুজি আমাদের কে প্রসাদ দিলেন, কিছুক্ষণ গল্প করলেন। তারপর যার আসার কথা ছিলো সে এলো আধঘন্টা পরে। শুরু হলো বৈঠক। সকলকে নিজের নিজের পরিচয় দিতে বলা হলো। কে কি করি, কখন করি, বিকেলে কোনো কাজ আছে কি না, দেশের জন্য কাজ করতে চাই কি না, মানুষের সেবা করতে চাই কি না -এসব জিজ্ঞেস করা হলো। কথাবার্তা বেশ ভালোই হলো। বেশ ভালো লাগল সকলেরই। শেষে বলা হলো - আগামী কাল বিকেলে আর একবার মাঠে যেতে হবে। চলে এসো। এমনিতেই তো তোমাদের বিকেলে কোনো কাজ নেই। তোমরা তো ওখানেই বসে থাকো, কালকে একটু তারাতারি চলে আসবে। তোমাদের গ্রামের সরস্বতী শিশু মন্দিরের মাষ্টার মশাই এবং তোমাদে...

ধর্মরাষ্ট্র গঠনের পথ ও পরিস্থিতি

মুসলমানদের জন্য মাদ্রাসা আছে। কিন্তু হিন্দুদের জন্য গুরুকুল নেই। একবার মাদ্রাসা ছাড়া মুসলমান ছেলেদের ইসলামিক শিক্ষার কথা ভাবুন তো! মাদ্রাসা ছাড়া কি সত্যিই মুসলমান ছেলেদেরকে ইসলামিক শিক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে!? কখনোই সম্ভব নয়। অসম্ভব! তুমি মাদ্রাসা বন্ধের কথা ঘোষণা করে দেখো দেশ জ্বলে উঠবে। কিন্ত হিন্দুদের? দেশে প্রায় 150 টির উপর হিন্দু সংগঠন আছে, কিন্ত গোটা দেশ জুড়ে 1500 টোল/ গুরুকুল আছে কিনা সন্দেহ। এই দেশে মন্দিরের সংখ্যা কত? প্রত্যেকটি বড় মন্দিরে যদি একটি করে গুরুকুল থাকতো, তাহলে সংখ্যাটা কত দাঁড়াতো!? এবার একটা পরিস্থিতির কথা বলি। ধরুন ভারতবর্ষ মুসলমানরাষ্ট্র ছিলো। তারপর 1100 খ্রিস্টাব্দের পরবর্তী সময়ে ক্রমাগত আক্রমণ শুরু হলো। আক্রমণ সামলাতে না পেরে মুসলমান সম্রাটরা হেরে গেলো হিন্দু শাসকদের কাছে। তারপর মুসলমানদের একে একে সমস্ত বড় মসজিদ ধ্বংস করে মন্দির নির্মাণ করা হলো, শুয়োরের রক্ত ছড়িয়ে সমস্ত মসজিদ অপবিত্র করা হলো। শুয়োরের মাংস খাইয়ে অনেক মুসলমান কে হিন্দুধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য করা হলো। মুসলমানরা হিন্দুধর্ম গ্রহণে অস্বীকার করলে চললো হত্যালীলা। এইরকম জঘন্য সাংস্কৃতিক আক্রমণ ...

খাদ্যের আমিষ-নিরামিষ🌰 🧄

  আণবিক জীববিজ্ঞানের  দৃষ্টিকোণ থেকে আমিষ বা প্রোটিন হল পেপটাইড বন্ধনসমূহ দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের  পলিমার  শৃঙ্খল। মানব পরিপাকের সময় পাকস্থলীতে  হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড   ও   প্রোটিয়েজ   নামক   উৎসেচকের  ক্রিয়ার ফলে আমিষ অণুগুলো ভেঙে অনেকগুলো ক্ষুদ্রতর  পলিপেপটাইড শৃঙ্খলে  পরিণত হয়। মানবদেহ অত্যাবশ্যকীয় অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো  জৈবসংশ্লেষ  করতে পারে না, তাই খাদ্য হিসেবে গৃহীত আমিষে অবস্থিত এই অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো  শোষণ  হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমিষ মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। এটি দেহকলার গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি এবং জ্বালানির উৎস হিসেবেও কাজ করতে পারে। জ্বালানি হিসেবে আমিষ শর্করার সমপরিমাণ শক্তি ঘনত্ব প্রদান করে: প্রতি গ্রামে ৪ কিলোক্যালরি (১৭ কিলোজুল)। এর বিপরীতে স্নেহপদার্থ বা চর্বি প্রতি গ্রামে ৯ কিলোক্যালরি বা ৩৭ কিলোজুল শক্তি প্রদান করে। পুষ্টিগত দৃষ্টিকোণ থেকে আমিষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ও সংজ্ঞাসূ...